![]() |
| ঘুর্ণিঝড় |
এরপর থেকে বিগত এক যুগে বাংলাদেশে যে সমস্ত ঘুর্ণিঝড় আঘাত হানে..
আসুন জেনে নেই সেসব ঘুর্ণিঝড় সম্পর্কেঃ
🔺আকাশঃ ২০০৭ সালের ১৪-১৫ মে চট্টগ্রামের ১১৫ কিঃমিঃ দক্ষিণে ১২০ কিমি/ঘণ্টা বেগে আঘাত হানে। মারা যায় ১৪ জন অধিবাসী এবং আনুমানিক ইউএস ডলার ৯৮২ মিলিয়ন সম্পদের ক্ষতি হয়।
🔺সিডরঃ ১১ নভেম্বর ২০০৭ সাল, সামান্য দূর্যোগের আভাস পাওয়া যায়। এর পরদিনই এটি ঘুর্ণিঝড় সিডরে রুপ নেয়। ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যার পর পাথরঘাটার বালেশ্বর নদীর উপকূলে আঘাত হানে উপকূল অতিক্রম করে। প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন মানুষের প্রাণহানী ঘটে। নষ্ট হয় প্রায় ৬ লাখ টন ধান। ধ্বংস হয় প্রায় ৯ লাখ ৬৮ হাজার ঘরবাড়ি। ২১ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়। মারা যায় প্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার গৃহপালিত পশু পাখি।
🔺নার্গিসঃ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ঘুর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে নার্গিস অন্যতম। ২০০৮ সালের মে মাসে এটি মিয়ানমারে আঘাত হানে। প্রাণ হারায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ। ৪ লাখ ৫০ হাজার ঘরবাড়ি প্রায় পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। বাংলাদেশের উপর এর প্রভাব পড়লেও তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
🔺রেশমিঃ ২৬ অক্টোবর ২০০৮ সালে ৮৫ কিমি/ঘণ্টা বেগের ঝড় বাতাসের সাথে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। ১৫ জন অধিবাসী মারা যায় এবং সহস্রাধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে।
🔺বিজলিঃ ১৯ এপ্রিল ২০০৯ সালে দুর্বলভাবে বাংলাদেশে আঘাত হানে। বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি সামান্য কিছু বাড়ি ও ফসল বিনষ্ট করে।
🔺 আইলাঃ ২০০৯ সালে উত্তর ভারত মহাসাগরে জন্ম নেয়া দ্বিতীয় বৃহত্তম ঘুর্ণিঝড় আইলা। ২৫ মে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে ও ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাংশে আঘাত হানে। এর ব্যাস ছিল ৩০০ কি.মি. যা সিডরের চেয়ে ৫০ কি.মি. বেশি। প্রায় ১০ ঘন্টা সময় নিয়ে উপকূল অতিক্রম করে বাতাসের তীব্রতা কমে ৮০-১০০ কি.মি. এ নেমে আসে ফলে ক্ষয়ক্ষতি সিডরের তুলনায় কম ছিল।
🔺 মহাসেনঃ ২০১৩ সালের মে মাসের শুরুর দিকে বঙ্গোপসাগরে উৎপত্তি। কার্যত মহাসেন স্থির থাকলেও ১০ মে ঘনীভূত অবস্থায় চলে যায়। পরবর্তীতে শক্তিশালী ঘুর্ণিঝড় হিসেবে রুপান্তরিত হয়।
🔺 কোমেনঃ ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই চট্রগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে ৫-৭ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে আঘাত হানে ঘুর্ণিঝড় কোমেন। এটি ছিল একটা অস্বাভাবিক গ্রীষ্মপ্রধান ঝড় যা বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে উৎপন্ন হয়েছিল। ২০১৫ সালে এর তান্ডবে মিয়ানমার, বাংলাদেশ এবং ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছিল।
🔺রোয়ানুঃ ২০১৬ সালের ২১ মে বরিশাল-চট্রগ্রাম ও ভারতের আংশিক ৪-৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে আঘাত হানে রোয়ানু। ধারণা করা হয় ঘুর্ণিঝড় রোয়ানুর ব্যপ্তি ছিল ২ টি বাংলাদেশের আকৃতির সমান।
🔺 মোরাঃ ২০১৭ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে প্রবল ঘুর্ণিঝড় মোরা আঘাত হানে। এর আঘাতে শতাধিক বাড়িঘর ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
🔺 ফণীঃ বাংলাদেশ প্রথম যে ঘুর্ণিঝড়ের নাম দেয় তা হচ্ছে
"ফণী"। ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল ভারত মহাসাগরে সুমাত্রার পশ্চিমে একটি ক্রান্তীয় নিম্নচাপ থেকে সৃষ্টি হয় ফণী। ৩০ এপ্রিল প্রবল ঘুর্ণিঝড়ের রুপ নেয়। ফণীর কারণে পূর্ব ভারত ও বাংলাদেশে মোট ৮৯ জন মানুষ মারা যায়।
🔺 বুলবুলঃ ২০১৯ সালের নভেম্বরে পশ্চিমবঙ্গের উপকূল ঘেঁষে প্রথম আঘাত হানার পর ১৫০ কিলোমিটার বেগে বাংলাদেশের দিকে ছুটে আসে। বুলবুলের পূর্ব এবং পশ্চিমের দু'দিকেই তিনকোনার মতো অবস্থানে ছিল সুন্দরবন। সুন্দরবনের গাছপালার কারণে বাংলাদেশে এসে বুলবুল বেশ দুর্বল হয়ে।
🔺 আম্ফানঃ সুপার সাইক্লোন আম্ফান ২০২০ সালে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ঘুর্ণিঝড়ের নাম। এই আম্ফান প্রতিরোধেও বুক পেতে দিয়েছে সুন্দরবন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আল্লাহ প্রদত্ত এই সুন্দরবন বরাবরই প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সৃষ্টিকর্তা অনিষ্ট সৃষ্টিকারী প্রকৃতিকে তার সৃষ্ট প্রাকৃতিক দেয়াল দ্বারা বরাবরই রক্ষা করে যাচ্ছেন। আমরা মানুষ যা বুঝতে পারি না! তাই সুন্দরবনের প্রতি আমাদের আর একটু সদয় হওয়া উচিৎ নয় কি!!
মোকাম্মেল হক সোহেল
২২ মে ২০২০.
পোস্টের ফেসবুক লিংক
ফেসবুকে আমি মোকাম্মেল হক সোহেল

No comments:
Post a Comment