![]() |
| J.N.ISLAM |
আমাদের দেশে এত বড় একজন বিজ্ঞানী ছিলেন অথচ তার নামই জানিনা! প্রথম যখন এমন একজন গুনী মানুষের নাম শুনলাম তখন খুব জানার আগ্রহ হলো। তাই গুগল, ইউটিউব, উইকিপিডিয়ায় সার্চ করে যে তথ্য গুলো দেখলাম তা সংক্ষেপে আপনাদের জন্য তুলে ধরলাম। স্টিফেন হকিং কে নিয়ে আমরা যে পরিমাণ লেখালেখি করেছি এই বিজ্ঞানীর সাথে তুলনা করলে মনে হয় তা ছিল অতি বাড়াবাড়ি লেভেলের! কারণ তিনি ছিলেন স্টিফেন হকিংয়ের চেয়েও মেধাবী এবং বড় বিজ্ঞানী!
তার নাম জামাল নজরুল ইসলাম। ১৯৩৯ সালের ২৪ জানুয়ারি ঝিনাইদহে জন্ম নেয়া এই বিজ্ঞানী কে বলা হয়ে থাকে গোটা বিশ্বের আধুনিক বিজ্ঞানীদের ৭ জনের একজন! তিনি সারাবিশ্বে জেএন ইসলাম নামে পরিচিত। আধুনিক বিশ্বের বিজ্ঞানীদের কাছে বাংলাদেশ জেএন ইসলামের দেশ হিসাবে পরিচিত। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ছিলেন স্টিফেন হকিংয়ের বন্ধু, সহপাঠী এবং সহকর্মী! প্রায় ৮ ডজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু জেএন ইসলাম কে বলা হতো আধুনিক পৃথিবীর অন্যতম মেধাবী মানুষ!
দুটো উদাহরণ দেই...
কেমব্রিজের ট্রিনিটি থেকে গনিতের ট্রাইপাস পাশ করতে সময় লাগে ৩ বছর। তিনি ২ বছরে তা কমপ্লিট করে বিশ্বকে
তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন! ২০০১ সালে পৃথিবীর তামাম বিজ্ঞানীরা যখন বলেছিলেন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে! সেসময় জামাল নজরুল ইসলাম গনিতের হিসাব নিকেশ কষে পৃথিবীর মানুষকে আস্বস্ত করে বলেছিলেন "সেরকম কোন আশংকা নেই কারণ.. পৃথিবীর নিয়মে সৌরজগতের সবগুলো গ্রহ একই রেখায় অবস্থান করলেও পৃথিবী নামক গ্রহের কোন ক্ষতি হবে না!"
তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন! ২০০১ সালে পৃথিবীর তামাম বিজ্ঞানীরা যখন বলেছিলেন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে! সেসময় জামাল নজরুল ইসলাম গনিতের হিসাব নিকেশ কষে পৃথিবীর মানুষকে আস্বস্ত করে বলেছিলেন "সেরকম কোন আশংকা নেই কারণ.. পৃথিবীর নিয়মে সৌরজগতের সবগুলো গ্রহ একই রেখায় অবস্থান করলেও পৃথিবী নামক গ্রহের কোন ক্ষতি হবে না!"
চট্রগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি পরীক্ষায় তিনি এত ভাল করেছিলেন যে শিক্ষকরা তাকে প্রমোশন দিয়ে এক ক্লাস উপরে ভর্তি করিয়েছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের শিক্ষক সোরো জেএন ইসলাম কে ডাকতেন লাইভ কম্পিউটার বলে! অন্যান্য বিজ্ঞানীরা যেখানে কম্পিউটারে ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতেন সেখানে জেএন ইসলাম ক্যালকুলেটর ছাড়াই বড় বড় হিসাব মুহূর্তেই করে দিতেন! তিনি ছিলেন একাধারে পদার্থ বিজ্ঞনী, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, বিশ্বত্বত্তবিদ ও অর্থনীতিবিদ! জেএন ইসলাম সম্পর্কে স্টিফেন হকিং বলেছিলেন "জেএন ইসলাম আমার রুমমেট, বন্ধু এবং আমরা ছিলাম পরস্পর পরস্পরের শিক্ষক"!
১৯৬০ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত হকিং যেসব বিজ্ঞানীদের নিয়ে গবেষণা করেছেন জেএন ইসলাম তাদের মধ্যে অন্যতম!
বাঙালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু প্রথম রেডিও আবিষ্কার করলেও কৃতিত্ব চলে গিয়েছিল মার্কনির কাছে! ঠিক তেমনটি ঘটেছিল জেএন ইসলামের ক্ষেত্রে। বাংলাদেশের পত্রিকা, সোশ্যাল মিডিয়ায় স্টিফেন হকিং কে নিয়ে যেভাবে লেখালেখি করেছিল তার এক আনা পরিমাণ লেখা হয়নি জেএন ইসলাম কে নিয়ে।
স্টিফেন হকিং মেধাবী ছিলেন নিঃসন্দেহে। বিশ্বব্যাপী যে প্রচার প্রচারণা তিনি পেয়েছিলেন তা শুধু মাত্র তার মেধার জন্য নয় বরং তার অসুস্থতা, নাস্তিকবাদী এবং বৃটিশ নাগরিকত্বের জন্য। কিন্তু জামাল নজরুল ইসলাম নিজ দেশে থেকে এতটুকু মূল্যায়ন পায়নি! যেখানে নিজের দেশের মানুষই তাকে ভালভাবে চেনে না সেখানে বিদেশিরা তাকে যে সম্মান দিয়েছেন তা অনেক কিছু! বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত জামাল নজরুল ইসলামে লেখা " কৃষ্ণ বিবর" বইটিতে হকিংয়ের ব্লাকহোল থিওরির অনেক আগেই প্রাচ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হতো। কিন্তু আমরা কেউ তা জানি না, জানলেও কেউ তা প্রচার করেনি কখনও।
স্টিফেন হকিং মেধাবী ছিলেন নিঃসন্দেহে। বিশ্বব্যাপী যে প্রচার প্রচারণা তিনি পেয়েছিলেন তা শুধু মাত্র তার মেধার জন্য নয় বরং তার অসুস্থতা, নাস্তিকবাদী এবং বৃটিশ নাগরিকত্বের জন্য। কিন্তু জামাল নজরুল ইসলাম নিজ দেশে থেকে এতটুকু মূল্যায়ন পায়নি! যেখানে নিজের দেশের মানুষই তাকে ভালভাবে চেনে না সেখানে বিদেশিরা তাকে যে সম্মান দিয়েছেন তা অনেক কিছু! বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত জামাল নজরুল ইসলামে লেখা " কৃষ্ণ বিবর" বইটিতে হকিংয়ের ব্লাকহোল থিওরির অনেক আগেই প্রাচ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হতো। কিন্তু আমরা কেউ তা জানি না, জানলেও কেউ তা প্রচার করেনি কখনও।
সারা বিশ্বের বিজ্ঞানী মহলে জেএন ইসলাম "জিনিয়াস ইসলাম" নামেও পরিচিত ছিলেন! ফ্রেন্ডরিফ হয়েল, নোবেল বিজয়ী ব্রায়ান জোসেফসন, স্টিফেন হকিং, প্রফেসর আব্দুস সালাম, রিচার্ড ফাইনমেন, অমর্ত্য সেন প্রমুখ ছিলেন জেএন ইসলামের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। জেএন ইসলামের "The Ultimate Fate of The Universe" লেখা হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। কিন্তু হকিংয়ের "A Brief History of Time" লেখা ১৯৮৮ সালে!
বই দুটোর তুলনা করলে নিঃসন্দেহে জেএন ইসলামের বইটি যে কোন বিবেচনায় শ্রেষ্ঠ... আধুনিক বিজ্ঞানীদের মতে! আমরা হকিংয়ের বই নিয়ে তোলপাড় করেছি! যেখানে জেএন ইসলামের বইয়ের নামই আমরা শুনিনি! কেমব্রিজের শিক্ষক প্রফেসর সুসানার ভাষায় "বিজ্ঞানময়তার বিবেচনায় হকিংয়ের " A Brief History of Time" এর চেয়ে অনেকগুন বেশি কার্যকর এবং বিজ্ঞানানুগ হচ্ছে জেএন ইসলামের "The Ultimate Fate of The Universe"!
জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন আপাদমস্তক একজন দেশপ্রেমিক মানুষ! নিজের আয় থেকে অর্থ জমিয়ে দরীদ্র ছাত্রদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছেন। ১৯৭১ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ বন্ধের উদ্দোগ নিতে অনুরোধ করেছিলেন। বিদেশে সহশ্র পাউন্ডের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে চলে এসেছিলেন বাংলাদেশে! জেএন ইসলামের লেখা এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত "Rotating Fields in General Relativity" বইটিকে বলা হয় আধুনিক বিজ্ঞানের এক অদ্বিতীয় বই!
তার "The Ultimate Fate of The Universe" কোন বাঙালীর একমাত্র বই যা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ সহ হিব্রু ভাষায়ও অনুবাদ করা হয়। আর কোন বাঙালীর বই হিব্রু ভাষায় অনুবাদ করা হয় নি, কোনদিন হবে কিনা জানিনা! তার ৩টি বই এবং দুটো আর্টিক্যাল কেমব্রিজ, অক্সফোর্ড, হার্ভার্ড, প্রিস্টন সহ পৃথিবীর নামকরা শাতাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়। অথচ তার বইগুলো বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয় কি না আমার জানা নেই। যা হকিংয়ের লেখা বই এবং আর্টিক্যাল গুলোর চেয়ে অনেক গুণ বেশি সমাদৃত!
সে হিসেবে জেএন ইসলাম হকিংয়ের চেয়ে অনেক অনেক বড় বিজ্ঞানী! আপনি যদি আজ প্রথম এই মানুষটা সম্পর্কে জেনে থাকেন তবে আপনাকে অনুরোধ করবো এই মানুষটা সম্পর্কে আপনার পরিচিত জনকে জানানো আপনার দায়িত্ব।
জামাল নজরুল ইসলাম নামে আমাদের একজন মহান বিজ্ঞানী ছিলেন! ১৬ মার্চ ২০১৩ সালে চট্রগ্রামে তিনি মারা যান। যদিও তিনি প্রয়াত কিন্তু তার নাম জানা আমাদের জন্য গর্বের! যে আমাদের দেশের এত বড় মাপের একজন মানুষ ছিলেন।



No comments:
Post a Comment