Pages

মানবতা, রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশ

 রোহিঙ্গা ও আমরা

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আমরা মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। সময়ের প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সিদ্ধান্ত বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছিল।
সময়ের প্রেক্ষাপটে তা ছিল যৌক্তিক এবং পরিপূরক।
আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি, নিরাপত্তা দিয়েছি, তাদেরকে সাহায্য করতে সারা দেশ থেকে ছুটে গিয়েছি ওষুধ, খাদ্য, পানি, বস্ত্র সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় যা কিছু প্রয়োজন তাই নিয়ে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে, বাড়ি বাড়ি ঘুরে, ক্যাম্পাসের হলে হলে গিয়ে সাহায্য তুলেছি তাদের জন্য!!

আর বিনিময়ে বিগত দুই বছরে রোহিঙ্গারা আমাদের কি দিয়েছে চলুন একটু দেখে নেয়া যাক-

রোহিঙ্গা নাগরিক

🚫 গত ২ বছরে রোহিঙ্গারা খুন করেছে ৪২ জন রোহিঙ্গাকে এবং ১ জন বাংলাদেশের নাগরিককে! এ সংক্রান্ত ৪৭১ মামলায় আসামি করা হয়েছে ১০৮৮ রোহিঙ্গাকে! ইয়াবা চোরাচালানের ২০৮টি মামলায় আসামি হয়েছে ৩৬৮ রোহিঙ্গা!

দাঙ্গারত অবস্থায় রোহিঙ্গারা

🚫 রোহিঙ্গাদের কারণে উখিয়া, টেকনাফের দারীদ্রতা বেড়েছে ৩%। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ৫০% পর্যন্ত বেড়েছে। চরম বিপাকে পড়েছে স্থানীয় বাং লাদেশীরা!

🚫 ফসলি জমি, ব্যক্তি মালিকানাধিন সম্পত্তি জোর দখল করে নষ্ট করছে রোহিঙ্গারা! স্থানীয় বাসিন্দারাই ওদেরকে ভয়ে ভয়ে থাকে!

🚫 নানা কৌশলে স্থানীয়দের ব্যবসা বানিজ্য হাতিয়ে নিয়েছে তারা! টেকনাফ, উখিয়ার ৩২ টি ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের কোন দোকানে বাংলাদেশে উৎপাদিত কোন পণ্য নেই! সবই আসে তাদের দেশ মিয়ানমার থেকে!

🚫 স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যবসার ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স, টেক্স ভেটের ব্যাপার থাকলেও রোহিঙ্গারা এসব ছাড়াই ব্যবসা করে যাচ্ছে দেদারসে! ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মার খেয়ে যাচ্ছে নিজেদের ব্যবসায়!

🚫 অত্যন্ত ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে মাত্র ২ বছরে অস্র, ইয়াব আর অবৈধ পণ্যের ব্যবসা করে রোহিঙ্গাদের অনেকেই আজ কোটিপতি! এক জাতীয় দৈনিকের রিপোর্ট অনুযায়ী রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে রয়েছে এক ডজনের বেশি কোটিপতি রোহিঙ্গা!

🚫 রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে এক সময়ের সবুজ পাহাড় আজ বৃক্ষশূণ্য।ধ্বংস করা হয়েছে পরিবেশ, বনভূমি ও জীববৈচিত্র! প্রতিমাসে রোহিঙ্গাদের রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয় প্রায় ৭ হাজার টন জ্বালানি কাঠ! যার পুরোটাই আসে সরকারি বনভূমি উজাড় করে!
বন বিভাগের রিপোর্ট অনুযায়ী রোহিঙ্গারা উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার একর বনভূমি ধ্বংস করে বসতি স্থাপন করেছে। যার সরকারি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা! পরিবেশের ক্ষতি তো আর টাকা দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়!!

🚫 রোহিঙ্গাদের কোন পাসপোর্ট থাকার কথা নয়! কিন্তু রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ পাসপোর্ট না থাকলেও বিতর্কিত প্রিয়া সাহার সাথে আমেরিকা গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করে এসেছে!
অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে এরা সুঁই হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বেরোবে!

মানবতার খাতিরে আশ্রয় দেয়া রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এরা যে প্লেটে খায় সেই প্লেটেই মলত্যাগ করে!
এরা এখন আমাদের দেশের জন্য ভয়ংকর এবং হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে! যত দ্রুত সম্ভব এদেরকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে না পারলে ভবিষ্যতে আমাদেরকে চরম মূল্য দিতে হবে!

মোকাম্মেল হক সোহেল
০৬.০৯.২০১৯

পোস্টের ফেসবুক লিংক
ফেইসবুকে আমি : মোকাম্মেল হক সোহেল

Mokammelsohel's Blog

I am Mokammel Sohel. I love writing, researching and spreading knowledge

No comments:

Post a Comment